প্রিয়ন্তি-০১

উম্মে হাবিবা

0
710
puri golpo
-প্রিয়ন্তি,তোমার জন্য আমার কেমন যেনো মায়া হয়।কেমন যেনো চিনচিনে ব্যথা হয় তোমাকে দেখলে।
-ঠিক কেমন মায়া?
-জানি না।কোনদিন তোমার হলের সামনে দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় মনে হয় নি তোমায় এক চিলতে দেখে যাই।কিন্তু শহীদ মিনারে তোমার দৃঢ়কন্ঠে বলা কথাগুলো আমার বারবার শুনতে ইচ্ছা করে।
-তুমি যে বললে আমাকে দেখলে তোমার ব্যথা হয়?
-হ্যাঁ,তুমি আড়ালে গেলে আমার মনে হয় না তুমি হারিয়ে গেছো।সামনে থাকলে মনে হয় আর তোহ একটুক্ষন।তারপরই তুমি হারিয়ে যাবে। আর তাতেই আমার চিনচিনে ব্যথা হয়।
-তুমি কি কখনোই কঠিন কঠিন কথাগুলো সহজ করে বলতে পারবে না?
-হাসালে তুমি প্রিয়ন্তি।তুমি হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে দৃঢ়কন্ঠে ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জ্বলিত করো তখন কি খুব সহজ কথাই বলো?শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তোমার আগুনঝরা কন্ঠে আমি যে শ্লোগান শুনি তা কি সহজ?
-আমি জানি না সহজ কি কঠিন।তবে তোমার সব কথাই আমার কাছে কঠিন লাগে।কেনো জানি মনে হয় তোমার কথার মর্মার্থ আমি বুঝে ও বুঝি না।
-রাজনীতিতে যারা থাকে তারা বোধোহয় সহজ কথাগুলোই বুঝতে সময় নেয়।শুনেছি মেয়েরা ছেলেদের কথা মুখ ফুটে বলার আগে চোখ দেখে বুঝে নেয়।আমার কথা কেনো তোমার দূর্বোদ্ধ মনে হয়?হাজার জনের চোখ দেখে বলে দিতে পারো আন্দোলন কোন দিকে এগুচ্ছে!
-হাজার জন আর তুমি তোহ এক নও।হাজার জনের কাছে আমি হয়তো প্রজ্জ্বলিত কিন্ত তোমার কাছে আমি নিভু নিভু আলো।তোমার কাছে আমার এমন থাকতেই বেশ লাগে।
-প্রিয়ন্তি,নিজেকে সমর্পণ করে দিচ্ছো না তোহ আমার কাছে অজান্তে?
-কিছু মানুষের কাছে আপনাই সমর্পণ হয়ে যায় সবাই।আচ্ছা তোমার কথাগুলো সহজ করে দাও আমায়।আমি বুঝতে চাই,জানতে চাই।
-তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম খুব সাধাসিধে বেশে টিএসসি চত্বরে বন্ধুদের সাথে বেশ হৈ হুল্লোড়ে মেতে আছো।ক্যাম্পাসে নিউ ভেবেই এড়িয়ে যাই।তারপর বইমেলা,বকুলতলা,চারুকলা বিভাগে মুখোমুখি দেখা।তোমাকে আমার চোখ পড়ে বেশি অধিকারের আন্দোলনে তোমার আগুনঝরা কন্ঠ শুনে।এক অদ্ভুত উদ্দীপনাযুক্ত কন্ঠ শুনেছিলাম সেইদিন আমি।
-তোমাকে আমি আগে থেকেই চিনতাম।রাজনীতিতে তোমার প্রখর পদার্পণের কথা কেই বা না জানে?
-তারপর ক্যাম্পাসে কবিতা আবৃত্তি।তোমার সেই কন্ঠস্বর।আর একবার আমার কান ভেদ করে মগজকে শান্ত করে দেয়।
-কবিতা!সে আমার এক নেশা!
-সেই নেশা আমায় মুগ্ধ করেছে।এরপর থেকে প্রতিটা আন্দোলন,প্রতিটা অনুষ্ঠানে তোমার কণ্ঠস্বর খুঁজেছি আমি।
-আমি তোহ সামনেই থাকতাম।রাজনীতিতে যাদের পদচারণা আছে তারা একজোট হয়েই থাকে।
-তোমাকে আমি রাজনীতিবিদ হিসেবে খুঁজি নি।খুঁজেছি এক প্রতিভাবন নারী হিসেবে,খুঁজেছি দৃঢ়কন্ঠে প্রতিবাদি এক নারীকে।খুঁজে বেড়িয়েছি আমার মতো অনিশ্চিত পথে পা বাড়ানো এক সহযোদ্ধাকে।
-বাহ,তুমি তোহ বেশ বলতে জানো!
-প্রিয়ন্তি বেলা পড়ে আসছে।তুমি উঠে যাবে।যাওয়ার আগে বলার আছে,রাজনীতির পথটা সহজ নয়,সেই রাজনীতিতে থেকে চারদেয়ালে বন্দি হয়ে সংসার পাতা ও সহজসাধ্য নয়।আমার একজন সহযোদ্ধা চাই।যে আমার সাথে রাজনীতির আন্দোলনে গলা মিলাবে আবার সেই কন্ঠ শুনেই আমি রোজ রাত্তিরে চোখ বুঝবো।তুমি আমার সহযোদ্ধা হবে কি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here