শিশির ভেজা একরাশ রক্তিম গোলাপের পাপড়ি

0
187
প্রেমানন্দি,
পত্রের শুরুতে কলমের আঁচরের অনুলিপে শুভ্র কুয়াশায় ঢাকা শীতের সকালে শিশির ভেজা একরাশ রক্তিম গোলাপের পাপড়িতে লিখে দিলাম মনের গহিনে জমে থাকা অব্যক্ত কথামালা। ভালোবাসা কী তা হয়তো কখনো কান পেতে শোনা হয়নি মনের দরজার, তবে তোমার ঠোঁটের কার্ণিশে লেগে থাকা হাসিটুকু আমার বেঁচে থাকার খোরাক। আমার তরে এটাই ভালোবাসা। নির্মল আকাশের বিশালতায় ভেসে বেড়ানো এক খন্ড উড়ো মেঘের মত আমিও নিরলস ছুটে চলি তোমার আঙ্গিনায়। আমি তো ভালোবাসতে চাইনি! মিথ্যে মায়ার জলাঞ্জলে নিজেকে আবৃত করতেও চাইনি। গুটিয়ে রেখেছিলাম অগনিত অতীত বসন্ত বালিকার হলদে শাড়ীর আঁচল থেকে। বসন্ত বরণে সবাই কী হলদে শাড়ীতে সাঁজায় দেহের গড়ণ? নাহ! সবাই তো সাঁজে না। সবাই সাঁজতেও চায়না। একটা কালো টিপ কিংবা সাদা কালো শাড়ীতে বারান্দায় বসে কাটিয়ে দেয় বসন্ত বিকেল। সন্ধ্যার আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো সুখ তারার সাথে গল্প করেই  স্মৃতি হয়ে থাকত আমার বসন্ত। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পরাজয় মেনে নিয়েছি তোমার হাসির আদলে। নির্বাক চোখে তাকিয়ে দেখি চিবুক জুড়ে তোমার হাসির আল্পনা। শুধু তোমার মুখ হাসে না যেন সর্বাঙ্গ ভরিয়া হাসে। পূর্ণতার অমর অলক ছুঁয়ে থাকা মায়াবতীর একফালি হাসি। যেন সহস্র নক্ষত্রভেদী আলোক গুচ্ছো ছুটে চলে দীগন্ত পানে। যেখানে জড়ো হয়ে আছে অসীম প্লাবনে ধেয়ে আসা রাশি রাশি ভালোবাসার সুপ্ততা। একমুঠো জোৎস্নার স্নিগ্ধতা তোমার চুলের খোঁপায় বেঁধে দিলাম। একরাশ শুভ্রকেশ আমায় ছুঁতে দিও। আগন্তুক বসন্তের অনাবিল উচ্ছালতায় হলদে শাড়ীতে সাঁজিয়ে নিও দেহের গড়ণ। যদি শঙ্খচিলের দল ঘুম ভেঙে তোমার দরজায় কড়া নাড়ে তবে বুঝে নিও আমি আছি সে দলে। স্বপ্নের পালাবদলে যদি কখনো ভালোবাসা সরে দাঁড়ায় বিভৎস  চেহারায় তবুও তুমি বেঁচে থেকো সুখস্মৃতির উন্মাদনায়। কবেকার কিশোর প্রভাতে আকাশের বিশালতায় লেখা হয়েছিলো ভালোবাসার কথাকলি।
প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বাতায়নে ঝড়নার স্রোতধারা অবিরাম বহে। সংকীর্ণ বাতায়ন পথে  চোখ রেখেছ কী দূরবীনে? বর্ণীল আকাশের বুকে অজস্র নক্ষত্ররাজী অবিরাম খেলা করে দুঃখ, কষ্ট, বিরহ-বেদনা অথবা অপূর্ণতার গ্লানি ভুলে। আজও ছুঁয়ে দেখা হয়নি তোমার ললাটের কালো টিপ। হৃদয় কোঠরে জমে থাকা হাহাকার, অনুযোগ, উৎকণ্ঠা, কিছুই তুমি শোননি। জানিনা ভালোবাসার এই অলস কাব্য তোমাকে স্পর্শ করবে কি-না যেমনটা স্পর্শ করে ভোমরকে ফুলের সৌরভ।
দিনের জঞ্জাল শেষে ক্লান্ত দিবালোক যখন ধরণীর অপর প্রান্তে ঘোমটা খুলে মুখ দেখাতে ব্যাস্ত তখনও আমি লিখে-চলি তোমার রুপের কাব্যকলা। তোমার অগোচরে তোমাকে দেয়া নাম “প্রেমানন্দি”। এ নামেই তোমাকে ডাকি শতবার। ভাবনারা জটবেঁধে যায় তোমার মুখোদর্শনে। শীতল হয়ে আসে শরীরের রক্তস্রোত। তৃষ্ণায় বক্ষের ছাতি ফেঁটে যাওয়ার উপক্রম। তবে এসব’ই কী ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ? বেঁচে থাকার আকুলতা ফুঁড়িয়ে গেলে ভালোবাসাও নিস্তেজ হয়ে পরে আপন আলয়। তবুও তুমি কল্পনার দহন। যার উষ্ণতায় পুড়ে পুড়ে আজ মৃত্যু কঙ্কাল।
বসন্ত বরণে প্রকৃতি সাঁজে আপন রঙে। কোকিল ডাকে কৃষ্ণচূড়ার মগডালে। দীগন্ত ভেদী শঙ্খচিলের দল উড়ে চলে উল্লাসের জোয়ারে মিশে। চলো না, প্রাচুর্য্যের দেয়াল ভেঙে সাদামাটা জীবনের গালিচায় হেঁটে চলি অসীম গন্তব্যহীন পথের পানে। যেখানে পুঞ্জিভূত স্বপ্নের দেয়াল ঘেঁসে তুমি-আমি অথবা আমি-তুমি বেঁচে রবো ভালোবাসার দিনলিপি লিখে। যেখানে দিনের সূচনালগ্নে আলোর স্রোতে পাল তোলে হাজারো প্রজাপতি। ফুলের পাপড়িতে উড়ে বেড়ায় আপন সুরে গান গেয়ে। তুমি-আমি সুর মেলাবো শুদ্ধ প্রেমের গানে প্রজাতির সুরের তালে। মুক্তমনে স্বরচিত কাব্য শোনাবো তোমার কর্ণ কূহরে। প্রকৃতির সাঁজে রাঙিয়ে দাও আমার এ বসন্ত। দিন শেষে সাঁজঘরে ফেরা পাখির মত মুখ লুকাতে চাই তোমার আঁচল তলে। সমস্ত বিভেদ ভুলে থমকে দাঁড়াবে পূর্ণতার আদিম ক্রন্দন।
বসন্তের আগমনী বার্তায় প্রকৃতি নাচতে শুরু করেছে আপন শালীনতায় ঠিক যেমন নিপুণতায় সাঁজানো তোমার নিত্যদিনের জীবন শৈলী। প্রেমানন্দি, চলো না হারিয়ে যাই অদূর দূর দেশে…
ইতি
তোমার ভালোবাসার কাঙাল
নামঃ নাঈমুল হাসান দূর্জয়
মোবাইলঃ ০১৭৩৮-৮৪৭৭৩৭
পেশাঃ ছাত্র
প্রতিষ্ঠানঃ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here