অব্যক্ত স্বীকারোক্তি

জাকিয়া সুলতানা প্রীতি

0
163
tona tunir golpo mp3

মা,তোমাকে না অনেক ভালোবাসি। তোমার জন্যই তো আমার এই পৃথিবীতে আগমন। তোমার জন্যই এই পৃথিবীতে আমার চলতে শেখা। বলতে কখনো কি পেরেছি তোমাকে কতোটা ভালোবাসি? পারিনি। হয়তোবা আর কখনোই পারবো না।

তোমার মনে আছে সেদিনের সেই রাতের কথা। প্রচন্ড জ্বরে কম্পমান কাহিল সেই ছোট্ট আমি। সারাটা রাত প্রলাপের জ্বরে ক্লান্ত তুমি। কিন্তু কখনো নুয়ে পড়ো নি।সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে কীভাবে তুমি সারারাত জেগে থাকতে! কীভাবে পারলে তুমি! তাও একটা রাত না। শুধু আমার জন্যে মা,শুধু আমার জন্য! কিন্তু আমি?স্বার্থপর আমি কি করতে পারলাম তোমার জন্য? কষ্ট ছাড়া কি-ই বা দিতে পারলাম তোমাকে? কিছু না, ধিক্কার এই আমাকে।

তুমি কাঁদছো মা? কিন্ত আজ যে চাইলেও আমি তোমার চোখের অশ্রু মুছে দিতে পারবো না।

আমার জন্য তোমাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে তাই না, মা? তোমার যে কোন কথাই শুনতাম না আমি। কিন্তু আজ যখন আমার কাছে সময় নেই, সুযোগ নেই, তখন বড় কষ্ট হচ্ছে মা আমার! বড় জানতে ইচ্ছে করছে, তুৃমি কি আমায় মাফ করতে পেরেছো মা?

আজ আমার চারদিকে নিকষ কালো অন্ধকার। তার মাঝে আমি যে বড় একা মা! বড় একা! খুব ভয় করছে মা! আজ মা খুব ইচ্ছা করছে তোমাকে জাপটে ধরতে।তোমার বুকে মুখ লুকাতে। কিন্তু..সে পথ যেন আমি নিজেই চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছি। আজকে আমার এই পরিণতির জন্য আমিই দায়ী মা, একমাত্র আমি। আজ যদি তোমার কথা একবার শুনতাম.. একবার.. তাহলে!
কিন্তু কষ্ট আমার পরিণতির জন্য নয় মা! কষ্ট আমার এখানে যে যাবার বেলায় তোমাকে বলে যেতে পারলাম না, যে তোমাকে কতোটা ভালোবাসি! কেন জানি সময় থাকতে এর সদ্ব্যবহার করতে পারলাম না, মা!

ভাগ্যের কি লিখন, মা! কাছে যখন ছিলে, তখন তোমার মূল্য বুঝিনি। জানি আমার চলে যেতে হবে। আর তো মাত্র কয়েকটা মুর্হূত। এরপর চলে যেতে হবে আমাকে চিরদিনের জন্যে! তোমার সাথে মা আমার আর কোনদিন দেখা হবে না, বলা হবে না অব্যক্ত কথা গুলো। বলা হবে না অব্যক্ত ভালোবাসাগুলো!

আমার যে যাবার সময় হয়ে গেলো মা! ওরা আমাকে নিতে এসেছে। আমার যে আর থাকবার জো নেই। ভালো থেকো মা। জানি তুৃমি আমাকে মাফ করে দিবে। মায়েরা তো এমনই হয়! আর শোনো মা,আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি!

হালকা এক শীতল হাওয়া স্পর্শ করে গেলো মিসেস খানকে। সুবর্ণা খান,একজন মা। ছোট ছোট পায়ে ধীরে ধীরে জানালার পাশে এসে ব্যস্ত হয়ে কাউকে খোঁজেন তিনি। কিন্তু পান না তাকে। তারপর তিনি নিজের সাথেই কথা বলতে থাকেন। বলতে বলতে তিনি টেরও পেলেন না কখন তার হাত থেকে সেদিনের পত্রিকাটি পড়ে গেলো। যাতে বড় বড় করে লেখা, “বাস ধাক্কায় ভার্সিটি ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু…”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here