Doubt Or Death

সাদিয়া সিদ্দিকা

0
139
sera lekhoker 100 vuter golpo

‘জামাটা পরে নাও এখন’
আমি গায়ে চাদর জড়িয়ে দেখলাম শাহির সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। শাহিরের চাকরিটা কিছুদিন আগে নট হয়ে গেছে। অফিসের বসের অভিযোগ শাহির নাইট ডিউটি রেখে সারাক্ষণ ফোনে কথা বলে। আমি ভেবেই পাচ্ছিলাম না আমাদের রাত জেগে কথা হতো কখন। পাশের বাড়ির রোকমিনা আমার পিঠে খামচির দাগ দেখে সেদিন বললো, ‘কী খবর ভাই আপনাকে আজকাল খুব কষ্ট দিচ্ছে তাই না? পিঠে কষ্টের দাগ যত্ন করে তুলে রেখেছেন দেখছি!’
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম কথা শুনে। রাগে, ঘৃণায় বমি এসে গিয়েছিলো। এবং সেদিনই আমি বুঝেছিলাম যে লোকের ধারণা ভুল হলেও এ থেকে শিক্ষা নেয়া যেতে পারে। শাহিরকে আমি সেদিন থেকেই সন্দেহ করতে শুরু করলাম। অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম শাহির ফাইল জমা দিতে দেরী করতো। নাইট ডিউটি রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে গল্প করতো। আমার তখন মিসক্যারেজ হয়েছে। মন খারাপ থাকা সত্ত্বেও শাহিরের জন্য সবসময় হাসিখুশি থাকতে চেষ্টা করতাম এবং সিদ্ধান্তটা সেদিনই নিয়ে নিলাম।

বাজার করে আসার সময় সাইলেন্সার পিস্তলটা ব্যাগে নিয়ে নিলাম সৌভাগ্যবশত পিস্তলের লাইসেন্স আমার আগে থেকেই ছিলো। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হচ্ছে আমরা কাউকে সন্দেহ করি না কিন্তু শাহিরকে সন্দেহ করাটা আমার জন্যে এখন জায়েজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাগে একটা রড আর বেশ কিছু প্লাস্টিকের ব্যাগ কিনে বাসায় এসে দেখি শাহির পেছনে ঘুরে ফোনে কথা বলছে। চুপিচুপি চুরি করে কথা বলে যেভাবে ঠিক সেভাবেই!

দরজা খোলার শব্দ পেয়ে তাড়াহুড়া করে ফোন রাখতে গিয়ে পকেট থেকে একটা কাগজ কখন যে ফ্লোরে পড়ে গেছে খেয়ালই করলো না আমার স্বামী। ফোন কেটে আমার কপালে চুমু খেয়ে বললো, “বাসায় একা ভয় পাবে না তো? আমার আজ রাতে আসতে একটু দেরী হবে। তুমি ঘুমিয়ে যেও।”
আমার আর কিছু বলার ছিলো না সত্যি। ওর প্রতি ঘৃণায় আমার সারা শরীর পুড়ে যাচ্ছিলো। মনে পড়ছিলো যখন আমরা পাশাপাশি বসে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম একসাথে থাকবো গোটা কয়েক যুগ কিংবা আয়ত্তে নিবো সকল অধিকার এসব এখন হাসির খোরাক হয়ে গেছে এক মুহূর্তেই।

শাহির পেছনে ঘুরে দরজা খোলার আগেই প্রথম আঘাতটা করলাম। রডের প্রথম আঘাতটা লাগলো ভুলবশত ওর পিঠে। তাও এমন শক্ত সবল একটা যুবক হুমড়ি খেয়ে মাটিতে গড়িয়ে পড়লো। মনে সমস্ত ঘৃণা পুষে দ্বিতীয় আঘাতটা করলাম ওর মাথায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ও জ্ঞান হারালো। এরপর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজটা আমি করলাম হাসিমুখে। কিন্ঞ্চিৎ হাসি হাসি মুখ নিয়ে পিস্তলের ট্রিগার চেপে পরপর তিনটা গুলি করলাম। ও হ্যাঁ শাহির সবসময়ই ঘরে ফুল সাউন্ডে গান শোনে আর তাই পিস্তল সাইলেন্সার না হলেও শব্দ বাইরে যাওয়ার কোন চান্স ছিলো না। চৌদ্দ তলা থেকে আকাশটা একদম পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। কী সুন্দর দেখাচ্ছে শাহিরকে। সাদা শার্ট ইন করে পরা। এতো সুন্দর ছেলেটা আড়ালে কেন আরেকটা মেয়ের সাথে চুটিয়ে প্রেম করবে? আমার কী খারাপ লাগে না?
ফ্রিজ থেকে হুইস্কির বোতল খুলে বরফ ঢেলে খেতে খেতে মনে হলো যা হওয়ার তো হয়েছেই ফোনটা চেক করে দেখি কোন মাগীটার সাথে এতো রাত জেগে কথা বলতো যার জন্য চাকরিটাই নট হয়ে যায়!

পকেট থেকে ফোন বের করে দেখি তিনটা মেসেজ এসেছে। সবগুলোই শাহিরের মায়ের। শাহিরের মা গ্রামে থাকেন। ছেলেকে মেসেজ দেয়ার মতো তার সময় হয় কোত্থেকে কে জানে! আমি মেসেজ খুলে চোখ কপালে উঠে গেলো।
“বাবা তুবার জন্মদিনের সব প্রস্তুতি শেষ। একটা জন্মদিনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তোর চাকরিটা হারাবে জানলে রাতে তোকে ফোন দিতাম না। কিন্তু কি করবো বল, তুবাকে আমি মেয়ের মতো ভালোবাসি। ও সারপ্রাইজটা নিশ্চয়ই খুব পছন্দ করতো! দিনে সারাক্ষণ ও তোর কাছে থাকবে তাই সুযোগ করে রাতে কথা বলে নিবো। আমরা সবাই তোদের ওয়েট করছি। তুবাকে আমরা সবাই ভালোবাসি!”

দৌড়ে গেলাম শাহিরের কাছে। চেক করে দেখলাম পালস অনেক আগে থেকেই মিসিং। একটা ডেডবডি নিয়ে এখন আমি যাবো কোথায়? হুইস্কির লাস্ট পেগ নিয়ে সোফায় বসে বসে পুলিশের নাম্বার খুজঁতে গিয়ে হঠাৎ হসপিটাল থেকে ডক্টর রাণু ফোন দিলো। রিসিভ করতেই ভদ্রমহিলা খুশীর সংবাদটা দিতেই আমি আরেকটা ধাক্কা খেলাম। আমি অন্তঃসত্ত্বা!

বারান্দা খুলে বাইরে এলাম। এতো সুন্দর একটা দিনে আমি শাহিরকে খুন করেছি একটু আগে অথচ সন্দেহটা না করে জেনে নিলেই পারতাম। হুইস্কির গ্লাসটা টেবিলে রেখে বারান্দার গ্রীলের লক খুলে আনন্দে, এক বুক নিশ্বাস নিয়ে পাড়ি দিলাম শাহিরের দুনিয়ায়!

তারপর আরো কয়েকবছর পরে সারা দুনিয়ায় রটে গেলো শাহির মদ্যপ অবস্থায় নিজের স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে নিজেই সুইসাইড করে মারা যান। আড়ালে থেকে গেলো একটা বাচ্চা কেননা আমার কোন পোস্টমর্টেম হয়নি। হুইস্কির বোতলের পাশে এখনো শাহিরের দেয়া ঝরে যাওয়া গোলাপটা মনে হয় এখনো আছে। আর আমি ঠিকই ভালো বাসতে বাসতে শাহিরের অদৃশ্য হাতেই মরে গেলাম!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here