দি মার্ডারার

তোফাজ্জল হুসাইন

0
209
romantic golpo

দিহান ঘেমে টেমে একাকার হয়ে বাসায় ঢুকেছে। সাধারণত সব সময় অফিস থেকে সে এই সময়েই বাসায় আসে। আজকে অতটা তাপমাত্রা না হলেও দিহান প্রচুর ঘেমে আছে। তার সাদা শার্ট এর নিচে স্যান্ডো গেঞ্জিটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। খুব খেয়াল করলে গেঞ্জির কলারে লাগানো এল সাইজের স্টিকারটাও দেখা যাবে। কাপড় চোপর ছেড়ে ফ্রেশ হতে হতে নিশি চা নিয়ে চলে এসেছে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালেটা রেখে নিশিকে মিষ্টি করে একটা হাগ দিয়ে কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় চলে আসে দিহান। এটা রোজকার রুটিন তার। অফিস থেকে ফিরেই এককাপ কড়া রং চা তার চাই।

বাবা মায়ের বড় ছেলে দিহান, চাকরির সুবাদে ঢাকাতে বউ নিয়ে একটা ফ্ল্যাটে থাকে। প্রতি মাসে বাবা মাকে টাকা পাঠিয়ে দেয়। বিয়ের পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেল কিন্তু দিহানদের কোন সন্তান নেই। এটা নিয়ে নিশির সাথে প্রায়ই মান-অভিমান হয়। কিন্তু দিহান নিশিকে বড্ড ভালোবাসে। তবে দিহান যেন নিশির কাছে আলাদিনের চেরাগ। আজ পর্যন্ত নিশির করা কোন ইচ্ছে অপূর্ণ রাখেনি ছেলেটি।

রান্না ঘর থেকে নিশি খাবারের জন্য ডাকছে কিন্তু সাহেবের কোন খবর নেই। বিরক্ত হয়ে নিশি বেডরুমে আসে। দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে বৃদ্ধ আর মধ্যমা আঙুল দিয়ে তুড়ি বাজায়। দিহান স্থিতি ফিরে পেয়ে তাকায় নিশির দিকে। সাক্ষাৎ কোন পরি যেন আসমান থেকে নেমে এসেছে, নাকে ছোট ছোট ঘামের ফোঁটা, শাড়ীর আচল কোমরে প্যাঁচানো, চুল খোঁপা করে বাঁধা। এইভাবে নিশিকে এতো চমৎকার দেখা যাবে এটা দিহানের মস্তিষ্কে আবিষ্কার হয়নি কখনো। দিহান এতক্ষণ নিশির ফোন হাতে নিয়ে বসে ছিলো। দুজনে একসাথে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায়। দিহান যতটা ভালোবাসে নিশিও যেন কোন দিক দিয়ে কম যায় না।

কালো প্যান্টেরর সাথে সাদা শার্ট আর কালো টাই পরে সকালের নাস্তা খাচ্ছে দিহান। নিশি খুব ব্যস্ত। রাজ্যের কাপড় এক সাথে ওয়াশিং মেশিনে দিচ্ছে সে। একটু পরপর খাবার টেবিলে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। নাস্তা শেষ করে দিহান নিশিকে মিষ্টি একটা হাগ করে বেরিয়ে পড়ে। অফিস যেতে সাধারণত ২০-২৫ মিনিট সময় লাগলেও আজ দিহানের ১ ঘন্টা গচ্চা গেল। জ্যাম ৫ মিনিটের বেশি দীর্ঘ হয়নি। সামনে এগিয়ে দেখে একটা ১৫/১৬ বছরের ছেলের মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। আর তাকে ঘিরে ৫/৬ জন লোক দাঁড়িয়ে আছে। ঘটনার বোঝার মত সময় নষ্ট না করে দিহান ছেলেটিকে রিকশায় তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক সকল পেপার কমপ্লিট করে বিল দিয়ে চলে আসে অফিসে। এখানে তার অতিরিক্ত ৩০ মিনিট গেছে। অফিসে পৌঁছে দিহানের চোখ কপালে। সকল কলিগরা ওয়েটিং রুমে আর প্রাইমারি হলে কেমন অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করছে। কি হয়েছে কিছু বুঝবার আগেই অফিসের সব থেকে অলস কর্মচারী ইফতেখার সাহেবের সাথে দেখা।
আরে মিঃ দিহান! আজকে আপনার অাফিস আসতে দেরি হলো?
কিছু বলার আগেই আবার উনি বলতে শুরু করেন, জানেন কী হয়েছে? অফিসে পুলিশ এসেছে! বস নাকি তার রুমের ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। বলেই মুখে একটা দুখী ভাব আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু উনাকে মোটেও দুখী মনে হলো না। কিছু না বলেই দিহান ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়। সবাই দিহানের দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছিল যেন দিহানই তাদের বসকে মেরে ফেলেছে। এই অফিসে বসের পরেই দিহানের পোস্ট।

পুলিশ দিহানের বক্তব্য নিচ্ছে। কেয়ার টেকার হারুন চাচা নাকি বলেছেন, সবার পর দিহান স্যারই অফিস থেকে বের হয়েছে। উনিই সকালে সবার প্রথম লাশ দেখে এবং পুলিশ কে জানায়। দিহান গতকালের পুরো ঘটনা বিস্তারিত পুলিশকে বললো। সব সময়ের মতো সকল ডকুমেন্ট বসকে বুঝিয়ে, ফুল ডে’র সি সি টিভি ফুটেজ চেক করে দিহান অফিস থেকে বের হয়। আর কাল যাবার আগে বসের সাথে নরমালি কথা হয়েছে। আত্মহত্যা করতে পারে এমন কোন লক্ষণ দেখেনি। আর কেয়ার টেকার ও ততক্ষণে অফিস থেকে চলে যায়। গতকাল হারুন চাচা আর দিহান এক সাথেই বের হয়েছে গেইট দিয়ে।

বস প্রায় সময় দেরি করে অাফিস থেকে বের হন। একজন কন্সটেবল এই পুলিশের কানে কানে কিছু বলে, তারপর তারা সবাই এক সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে। একজন পুলিশ সবাইকে লক্ষ করে বলেন, আপনারা সবাই আপনাদের বেসিক আইডেন্টিটি দিয়ে অফিস থেকে চলে যাবেন। আমরা আরো ভালো ভাবে তদন্ত করতে চাই। বিকজ ইট্স এ ডিফরেন্ট কেস। আর যে কাউকে যখন তখন থানায় ডাকা হতে পারে। আশা করি আপনারা আমাদের সাহায্য করবেন। আর দিহান সাহেব, আপনার সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য। দিহানের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলেই পুলিশ ভেতরে চলে যায়। এক কোণায় বসে একজন সবার পরিচয় নোট করছে।

সিঁড়িতেই নিশির সাথে দেখা হয়ে যায় দিহানের। নিশি আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকে, কাপড় শুকাতে দিয়ে ছাদ থেকে আসছে নিশি, হাতে খালি বালতি। শরীর খারাপ কিনা! কী হয়েছে জিজ্ঞেস করতে করতে দিহান আর নিশি বাসায় ঢুকে। নিশিকে চায়ের কথা বলে দিহান অফিসের ড্রেস পাল্টে নেয়। নিশি চা করে নিয়ে এসে আবার যেই জানতে চাইবে কী হয়েছে, তার আগেই দিহান বলে, নিশি আমাদের অফিসের বস উনার রুমে ফ্যানের সাথে ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

কথাটা শোনা মাত্র যেন নিশির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। একথা শোনার জন্যে সে কোন ভাবেই প্রস্তুত ছিল না। নিশির মুখে বিন্দু মাত্র ছাপও পড়েনি তবে তার ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিলো কথাটা শোনা মাত্র। দিহান অফিসে যাবার পর নিশি তার বসকে ফোন করার চেষ্টা করে, কিন্তু তার ফোনে নাম্বার খুঁজে পায়নি, খুব অবাক হয় নিশি। তারপর ই-মেইল করে রাখলেও কোন রেসপন্স আসেনি। দিহান চা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বিকালে এ ব্যাপারে নিশির সাথে আরো কথা হয়।

দুই তিন দিন যাবৎ খুব অলস সময় কাটছে দিহানের। এর ভেতর একবার তাকে থানায় ডাকা হয় কিছু তথ্যের জন্য। একদিন সকালে দিহান বলে, চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
কোথায় যাবে? জানালার পর্দা ঠিক করতে করতে জিজ্ঞেস করে নিশি।
চট্টগ্রামে তোমার একটা ফ্রেন্ডেরর কথা বলতে না! কী যেন নাম?
সায়েল, নাম বলে থমকে যায় নিশি।
হ্যা সায়েল, দিহান আবার বলতে শুরু করে, চলো সমুদ্রের বাতাস উপভোগ করা যাবে, আর তোমার ফ্রেন্ড এর সাথেও মিট হলো।
নিশি কোন কিছুই বুঝতে পারছে না, এ কয়দিন নিশির খুব অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা নিশি দিহান কে বুঝতে দেয়নি। কিন্তু দিহান নিশির মন খারাপের কথা জানবে না তা কি হয়!

নিশি আর দিহান চট্টগ্রাম এসে পৌঁছলো বিকেল পাঁচটায়। খুব আলিশান এক হোটেলে রুম বুকড করা হলো। রাতেই সায়েলের বাসায় ডিনারের দাওয়াত। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে দুজনেই একটু রেস্ট করে নিল। সায়েলের বাসায় রাজ্যের আয়োজন। দিহান আর সায়েল সোফায় বসে গল্প করছে। নিশি আদিবাকে খাবারের টেবিল সাজাতে সাহায্য করছে। আদিবা সায়েলের স্ত্রী, তাদের তিন বছরের একটা বাচ্চাও আছে। আলফি। কিন্তু তাদের পরস্পরের একটুও মিল নেই এটা বুঝতে দিহানের কোন রকম বেগ পেতে হলো না।

রাতের খাবার খেয়ে দিহান আর নিশি হোটেলে ফিরে আসে। তাদের রুমের বারান্দা থেকে সামনে চরম একটা ভিউ আসে। পুরোটা শহর যেন তাদের সব সৌন্দর্য উজার করে দিয়েছে।
এখানে বসে এক কাপ কফি খেতে পারলে দারুন হতো, কি বলো নিশি?
দিহানের কথা শুনে নিশির ঘোর কাটে! হ্যা তাই তো!
কিন্তু বাসায় তো কফির ব্যবস্থা নেই, নিশি মুখ গোমরা করেই বললো কথাটা।
আমার ফোনটা দাও, রিসিপশনে কল দিই।
নিশি সাথে সাথে ফোন আনতে ঘরে ঢুকলো, কিন্তু রুমের কোথায় মোবাইল খুঁজে পাওয়া গেল না। দিহানও খুঁজলো, পাচ্ছে না কোথাও। তাহলে কি মোবাইল টা সায়েলদের বাসায় ফেলে এলো?
দিহান বললো, আমি নিচে কফির কথা বলে মোবাইল নিয়ে আসি গিয়ে। তুমি বাসায় থাকো।
নিশি হাল্কা একটা হাসি দিলো। কফির কথা বলে দিহান সায়েলদের বাসায় চলে গেল। সায়েল দিহানকে দেখে অনেকটা অবাক হয়ে বললো, আপনি?
হ্যা, ফোনটা ভুলে রেখে গেছি।
আসুন আসুন ভেতরে আসুন। কী খাবেন বলুন, চা নাকি কফি?
ফোনটা সোফাতেই ছিল, দিহান দেখলো ততক্ষণে আদিবা ঘুমিয়ে পড়েছে। সে বলল চা কফি কোনটাই লাগবে না, আমি আসি তাহলে?
বিদায় নিয়ে চলে এলো দিহান। বাসায় নিশি কফি হাতে অপেক্ষা করছে। বারান্দায় বসে দুজনে খুব আয়েশ করে কফি খেল আর শহরটাকে উপভোগ করলো।

পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে দিহান, নিশি কে ডেকে তুলে বের হয় সাগর তীরে। সকালটা চমৎকার কাটলো আজ। পতেঙ্গা সি বিচ। এখানে পাথরের সাথে সাগরের ঢেউয়ের স্পর্শে তৈরী হয় একটা মুহুর্ত। যে মুহুর্তে ইচ্ছে হবে প্রিয়তমাকে জড়িয়ে ধরে কাটিয়ে দিই সারাটি জীবন। সাগরের তীরে বসে চা খেল দুজনে। বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে বের হবে শপিঙের জন্য। এই সময়ে দিহানের ফোনে কল। বিরক্তি ভাব নিয়ে কল রিসিভ করে দিহান।
আপনি কি দিহান সাহেব বলছেন? ওই প্রান্ত থেকে অপরিচিত কন্ঠ।
জ্বি, বলছি! কিন্তু আপনি কে? দিহানের কথায় অনেকটা বিরক্ত ভাব।
আমি চট্টগ্রাম থানার এস.আই. শরীফ, আপনি একটু কাইন্ডলি সায়েল সাহেবের বাসায় আসতে পারেন এই মুহুর্তে?
জ্বি অবশ্যই, কিন্তু কী হয়েছে? কোন সমস্যা?
আসুন, আসলেই দেখতে পাবেন।

দিহান তখনি নিশি কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। সায়েলের বাসার সামনে লোক জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে এক পাশে বসে আদিবা কান্না করছে। সায়েলকে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ ফ্লোরে পড়ে আছে। কয়েকজন পুলিশ লাশটা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। আর কয়েকজন সারা বাড়ি তল্লাশি করছে।

আমরা যতটুকু জানি গতকাল রাতে আপনাদের ফ্যামিলি প্রোগ্রাম ছিল। এখানে সব শেষে আপনি এসেছিলেন। কিচেনে দুধের গ্লাসে ঘুমের ঔষধ মিশানো ছিল, যেটা সায়েল সাহেবের স্ত্রী রাতে খেয়েছিলো। আর খুনটা করা হয়েছে রাত দুইটা কি তিনটা নাগাদ। বসার ঘরে সি সি ক্যামেরা লাগানো আছে। আমরা তার ফুটেজ চেক করছি। আপনাকে ডাকা হয়েছে এটা বলার জন্য যে আপনি অনিচ্ছা বশত আমাদের সন্দেহের লিষ্টে পড়েছেন। আপনাকে শহর ছেড়ে যেতে দিতে পারছি না। আশাকরি বুঝতে পারবেন— এক কোণায় দাড়িয়ে এক শ্বাসে কথা গুলো বললেন এস.আই. শরীফ।

দিহান আর নিশি হোটেলে ফিরে আসছে। নিশির সব কিছু ঘোলাটে লাগছে। কী হচ্ছে এসব কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না। এই ঘটনা নিশিকে যেন পাগল বানিয়ে দিচ্ছে। দিহান এর ফোনে টুং করে নোটিফিকেশনের শব্দ হয়। এতক্ষণ দিহানকে খুব বিচলিত দেখালেও নোটিফিকেশন দেখে দিহানের মুখে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। সে সাথে সাথে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। নিশিকে কিছু বললো না।

দিহান বের হবার পর নিশি বিছানায় শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার চোখ লেগে আসে। ঘুমিয়ে পড়েছে নিশি। দিহানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। নিশি সামনে থেকেও কিছু করতে পারছে না। তার কল্পনা করতে কষ্ট হচ্ছে যে দিহানের মতো একটা মানুষ কাউকে খুন করতে পারে। তাদের সাজানো সব স্বপ্ন মুহুর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। নিশির চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে।

কলিংবেলের শব্দে ঘুম ভাঙে নিশির। তার চোখে পানি। দিহান অনেক তাড়াহুড়ো নিয়ে বাসায় ঢুকে।
লাগেজ প্যাক করো আমাদের ঢাকায় ব্যাক করতে হবে। মেইল এসেছিল, বসের খুনের কি যেন একটা রহস্য বেড়িয়েছে আমাকে ঢাকায় যেতে হবে। এটা নিয়ে থানায় গিয়ে পার্মিশান নিয়ে এসেছি।
কথাগুলো বলতে বলতে দিহান একটা লাগেজে কাপড় ঢোকাচ্ছে। নিশি কোন কথা বলেনি আর।

বিছানায় বসে ল্যাপটপে বিয়ের পুরনো ছবিগুলো দেখছিলো নিশি। দিহান বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত বেজেছে দশটা। চট্টগ্রাম থেকে এসে সোজা থানায় চলে যায় সে। পুলিশ জানিয়েছে তাদের বসকে প্রথমে অচেতন করা হয়েছে তারপর খুন। চায়ের সাথে অচেতন করার ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু সব থেকে অবাক করার মত বিষয় হলো চাটা তাদের বস নিজে বানিয়েছে। বস অফিসে নিজের বানানো চাই খায় সব সময়। সবার ফিংগার প্রিন্ট নেওয়া হয়েছে অফিসের, দিহানও দিয়ে এসেছে।

বাসায় এসে ফ্রেশ হতে হতে খাবার রেডি করে নিশি। পার্সেল থেকে প্লেটে উঠিয়ে রাখে। এতবড় জার্নি করে রান্না করার মতো কাজ নিশি পারবেনা এটা দিহান ভালোই জানে। তাই বাহির থেকে খাবার নিয়ে আসে। খেতে বসে দিহান কোন কথা বলেনি। নিশির মনে মনে খুব টেনশন ফিল করছে। দিহানের ল্যাপটপে তার বসের ইমেইল লগইন করা দেখেছে। নিশি খাবার টেবিল গুছিয়ে এসে দেখে দিহান তার কিছু কাগজপত্র একটা ফাইলে জড়ো করছে। নিশিকে দেখে কোন রকম পরিবর্তন এলো না তার মাঝে। আপন মনে নিজের কাজ করছে দিহান।
নিশি কিছু কাপড় একটা লাগেজ করো, সকালে ফ্লাইটে আমরা আমেরিকা যাচ্ছি।
নিশি কিছু বুঝে উঠার আগেই দিহান আবার বললো, কাজটা তুমি ঠিক করোনি নিশি। ল্যাপটপটা ভেঙে ফেলে দিহান, ফ্লোরে ছুড়ে মেরে।
নিশির ভেতরে এখন অনেক ভয় ঢুকে গেছে। তার মানে আজ আরো একটি মানুষ খুন হবে অথচ পুলিশরা এখনো কিছুই বুঝতে পারেনি। নিশি ঠিক বুঝতে পারছে না এখন তার কী করা উচিৎ। তার কারণে তিন তিনটা মানুষের জীবন দিতে হচ্ছে। দিহান নিশিকে এতটাই ভালোবাসে যার পরিমাপ আবিষ্কার করা সম্ভব না।

সকালে দিহানদের এপার্টমেন্টে পুলিশ এসেছে, তারা ছয়তলা থেকে এই বিল্ডিঙের র মালিকের ছেলে রুদ্রর লাশ নামাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে ছেলেটি ড্রাগস নিতো প্রচুর। রাতে ওভার ড্রাগ্স হয়ে মারা যায়। দিহান নিশিকে নিয়ে এয়ারপোর্টের জন্য বের হয়েছে। দিহানের মোবাইল বাসায় রেখে এসেছে ভুলে, কিন্তু এর জন্য আর ব্যাক করা যাবেনা। কিছুক্ষণের মধ্যে দিহানের বাসায় পুলিশ আসবে। কারণ ল্যাপটপের রিসাইকেল বিন থেকে সিসি টিভি ফুটেজ ডিলিট করা হয়নি। আর সেটা নিশি পুলিশকে মেইল করে দিয়েছে। কিন্তু নিশি এটা জানে না তার মেইল দিহানের ফোনে লগইন করা। রুদ্র, এবং সায়েলদের সাথে নিশির পরকিয়া আর বস থেকে ভিডিও নিয়ে হ্যারেজ্ড তার সামনে দিয়েই হতো। কিন্তু নিশির প্রতি ভালোবাসা একবিন্দু ও কমানো যাবেনা তার। নিশি আর দিহান পাশাপাশি সিটে বসেছে। খুব জোরে একটা ঝাঁকি খেয়ে বিমান আকাশে ফ্লাই করেছে। পৃথিবীটা ক্রমশ তাদের পায়ের নিচে যেতে থাকে। জানালা দিয়ে খুব নোংরা একটা দেশ দেখছে। যে দেশে একজন অফিসের বস জনগনের লাখ লাখ টাকা নিজের করে নেওয়ার ছক আঁকে। একজন আরেকজনকে কিভাবে নেচে ফেলতে পারে সে নিয়ে হাড্ডাহড্ডি লড়াই চলতে থাকে অনবরত।

দিহান একটা মুচকি হাসি দিয়ে মনের সব ময়লা ঝেড়ে ফেলে। বিমান আরো উপরে উঠে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here