জীবনবোধ

আতিকুর রহমান

0
748
bangla choto golpo
পৃথিবীটাকে যদি একটা রাস্তা ধরা হয়। জীবন হলো একটা গাড়ী এবং আপনি হলেন তার চালক। আপনার গন্তব্য হলো মৃত্যু।
আপনি কোন পথে যাবেন সেটা একান্তই আপনার ব্যাপার। আমরা প্রত্যেকেই এমন একটা রাস্তা চাই যেখানে জ্যাম নেই, সিগন্যাল নেই, বাক কম কিংবা গর্ত বা ভাঙা নেই।
কিন্তু না চাইতেও আমরা মাঝে মাঝে ভুলক্রমে ভাঙা বা যানজটের রাস্তায় ঢুকে পড়ি। কিংবা এমন কোন রাস্তায় যাই যার শেষে আর কোন রাস্তা নেই। তখন আমাদের সেখান  রাস্তা বদল  বা ইউটার্ণ নিয়ে নতুন কোন ভালো রাস্তার সন্ধান করতে হয়।
রাস্তায় চলতে চলতে মাঝে মাঝেই আমাদের যাত্রা বিরতি দিতে হয়। অনেক সময় থেমে গিয়ে পাম্প থেকে তেল নিতে হয়।
মাঝে মাঝে গাড়ি ব্রেকফেল করে অন্য গাড়ির সাথে ধাক্কা বা ছোট খাটো দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তখন দুটো গাড়িকেই কোন একটা গ্যারেজে নিয়ে রিপেয়ারিং করতে হয় বা যন্ত্রপাতি পরিবর্তনও করা লাগতে পারে৷
পুরো যাত্রাটাই একটা প্রতিযোগিতা যেখানে সবাই চায় আগে যেতে। তাই মাঝে মাঝে অনেকেই আপনাকে সাইড দিতে না চাওয়ার প্রবনতা থাকে। আবার কখনো আপনিই অনেককে  অতিক্রম করেন কিংবা আপনাকে অনেকে অতিক্রম করে।
চলতে কেউ কেউ বাইপাস বা শর্টকাট রাস্তা পেয়ে যায় কাউকে কাউকে আবার অনেক ঘুরে আসতে হয়।
কখনো কখনো তেলের পাম্পে যাওয়ার আগেই আপনার  তেল শেষ হয়ে যেতে পারে বা ইঞ্জিন বসে যেতে পারে। তখন আপনাকে দাড়িয়ে থাকতে হয় অন্য গাড়ীর সাহায্য নিয়ে গ্যারেজ বা পাম্প অবধি যেতে হয়। কখনো কেউ হয়তো সাহায্য করে  আবার কখনো কেউই সাহায্য করে না।  আপনাকেই ঠেলে ঠেলেই গ্যারেজ বা পাম্প অবধি যেতে হয়। অবশেষে আবার যাত্রা শুরু হয়।
কখনো দেখতে পান যে আপনি হয়তো একটু আগেই যাকে গ্যারেজে বা পাম্পে যেতে সাহায্য করেছিলেন আপনার সাহায্যের প্রয়োজনে আপনি তার থেকে সাহায্য চাইলেও। সে তাড়া দেখিয়ে আপনাকে ফেলে চলে যায়। আপনি সেই গাড়ীর দিকে তাকিয়ে তার চলে যাওয়া দেখেন। তখনি আবার অন্য কেউ এসে হয়তো আপনাকে সাহায্য করে।
চলার পথে যার থেকে সাহায্য চেয়েছিলেন কিন্তু সে আপনাকে সাহায্য করে নি। তার ইঞ্জিন বসে যাওয়ায় আপনি আবার তাকে গ্যারেজ পর্যন্ত পৌছে দেন।এভাবেই এই গাড়ী চলতে থাকে……………………
চলার রাস্তা শুধুই সরু বা একি রকম হলে আমাদের হয়তো একঘেয়েমিতা চলে আসতো তাই সৃষ্টিকর্তা রাস্তায় কখনো বাক, কখনো জঙ্গল, কখনো নদী, কখনো পাহাড়, কখনো সমতল করেছেন।
এই যাত্রায় যে যতক্ষন টিকে থাকবে তার গন্তব্য(মৃত্যু) ততো দূরে।
চলতে চলতে যার গাড়ী যেখানে ধ্বংস হবে বা বিকল হবে যা আর পূণরায় মেরামত অসম্ভব সেটাই তার গন্তব্য (মৃত্যু)।
এবং যাত্রা শেষেই বুঝতে পারা যায় এতোটা তাড়াহুড়ো না করলে বা রাফ ড্রাইভিং না করলে হয়তো যাত্রা  অনেক দীর্ঘ হতো গন্তব্যটা(মৃত্যু) অনেক দূরে হতো…………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here