আজ সোহার বিয়ে

0
1993

সুদাদ আনোয়ার সাহিল

 

বারোমাসি সজিনার গাছ জুড়ে হিম সাদা সজিনার ফুল ঠিক যেন আশ্বিনের আকাশ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা  হবার পথে। বাড়ির পেছনের জামগাছ টার আড়াল থেকে দোয়েল থেকে থেকে ডাকছে।

– কিরে তুই এখানে কেন? আজ না তোর বিয়ে? আয়োজন সব ঠিকটাক তো,জামাই কেমন  ফর্সা, লম্বা আর মুখে খোঁচা-খোঁচা  দাড়িঁ আছেতো? , বুজবি এবার মজা এতোদিন আমাকে জ্বালাইছিস  এবার তোকে তোর শ্বাশুড়ি জ্বলাবে। তিন বছর তিন মাসের ছোট হয়েও সব সময় আমার সাথে  ঝগড়া করতি না তুই বুজবি শ্বাশুড়ি কি জিনিস। আচ্ছা তোর বিয়েতে  আম- দুধ রং এর বেনারসি শাড়িটা পড়বি তো, আর জামাইয়ের জন্য নীল কারচুপির  কাজ করা সেরওয়ানি আর গোল্ডেন পাগড়ী – নাগরা  কিনেছে তো?,  কিরে তুই কথা বলিস না কেন? চুপকরে গাধীর মতো বসে আছিস যে,  কি জামাই পছন্দ হয়নাই? পছন্দ হবে না কেন বাবা রাজকুমার নিশ্চয়ই ঠিক করছে। আচ্ছা আমার পছন্দের সেই স্পন্স রসগোল্লা আর  লাল পোলাউ রাখছে তো খারার মেনুতে?  আর তুই পায়ে আলতা পরছিস?  হাতে মেহেন্দি দিছিস?  আর বেশি সাজবি না কিন্তু, বেশি সাজলে তোকে একটুও ভালো লাগে না।  জামাইয়ের জন্য সাদা ঘোড়া পাঠানো হইছে তো?  আর তোর জন্য কনে বিদায়ের লাল পালকি আনছে ? হলুদে সবাইকে শাড়ি – পঞ্জাবি দিছিলো তো ? তোর জামাই কে মানা করিস আমাদের বাসায় তোকে বেশি নিয়ে আসতে। আম্মু সারা জীবন তোকে বেশি আদর করছে, আর আমি কিছু বললেই, “ও মেয়ে বিয়ে দিলে শ্বশুর বাড়ি চলে যাবে, তুমি তো আমার কাছে থাকবা,”  ওমুক তমুক, আর তোর জামাই যে এখন আমার আদরে ভাগ  বসাবে তার কি হবে শুনি? তোর জামাই কে খবরদার আমার আদরে ভাগ বসাতে দিবি না।আগে ছোট বেলায় বিয়ের কথা বললেই তো চিৎকার করতি, বলতি, “বিয়ে করবো না “। এখন সেসব কই?
আচ্ছা সব কথা কি আমিই বলবো?

– আমি আর কি বলবো ভাইয়া?  তুই তো একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছিস। আমি চলে গেলে তুই খুব খুশি হবি তাইনা?  বুঝবি পাতা গুলা পড়ে যখন বিছায় থাকবে, তখন আবর্জনা স্থুপ মনে হবে তোকে,  তুই কিভাবে পারলি, , আমি চেয়েছিলাম তুই নিজে আমার বিয়ের সব আয়োজন কর। কিন্তু না, তুই তো অলস, ফঁকিবাজ, টাকা দিয়ে দায়সারা কাজ করলি, সবাই কে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলি। এখন ঘুমা সবসময়।

বাড়ি থেকে সোহার ডাক পড়লো, এইতো আর কিছুক্ষণ সোহা আছে এই বাড়িতে, তারপর তার  বিয়ের সাজে সেজে কবুল বলা, খাওয়া -দাওয়া  আর তারপর  কনে বিদায়। এই আনন্দ ও খনিকের। সোহা চলে গেলে হয়তো সারফিনের কবর টা প্রতিদিন  আম -জাম -হিজল গাছের পাতা পরে ঢেকে যাবে।রোজ দুই বেলা করে কেউ পাতা পরিস্কার করতে আসবেনা।মাঝে মাঝে দুপুর বেলায় খোশমেজাজে গল্প করতে  কেউ আসবে না। কিন্তু বোনের বিদায়ের করুন কান্নার আওয়াজ  ঠিকই পাওয়া যাবে,  আর পাওয়া যাবে সোহার হাতে লাগানো মৌরির গন্ধ মাখা সবুজ ঘাসের সুবাস যদিও তা হাজার ক্রশ পথ হাটা ক্লান্ত পথচারীদের প্রশান্তি দিতে পারবেনা, কিন্তু তার  কবরে থাকা ভাইকে ভালোভাবেই প্রশান্তি দিবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here